1. bdsomachar24.news@gmail.com : Mohashin Hossain : Mohashin Hossain
  2. smtrs12@gmail.com : news :

ঘরে রাখা টাকা ফিরছে ব্যাংকে, বাড়ছে আমানত

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

নির্বাচনের ডামাডোল ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আবারও দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা ফিরছে সাধারণ মানুষের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত জানুয়ারি মাসে ব্যাংকগুলো থেকে টাকা তুলে নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, ফেব্রুয়ারিতে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোয় আমানত বেড়েছে প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসা এবং আমানতের ওপর সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রাহকেরা আবারও ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে উৎসাহিত হচ্ছেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ৯১৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে ২৭ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। শতাংশের হিসেবে এই প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

অথচ নির্বাচনের আগে জানুয়ারিতে আমানত প্রবাহে ছন্দপতন ঘটেছিল। ওই মাসে ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ৬ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা আমানত কমে গিয়েছিল। তবে ফেব্রুয়ারিতে সেই ঘাটতি পুষিয়ে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমানত বেড়েছে ২ লাখ ২ হাজার ২২৯ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের খবর সাধারণ মানুষের মনে গভীর অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কার কার্যক্রম শুরু করলেও নির্বাচনের আগে এক ধরনের সতর্কতা হিসেবে অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হাতে রাখা নিরাপদ মনে করেছিলেন।

তবে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল হওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ আমানতকারীদের মনে নতুন করে ভরসা জুগিয়েছে। বিশেষ করে ঋণের সুদহারের সঙ্গে আমানতের সুদহার সমন্বয় করার ফলে এখন ব্যাংকে টাকা রাখলে আগের চেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে, যা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করছে।

নির্বাচন ঘিরে গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে মানুষের হাতে নগদ টাকা রাখার (ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থ) প্রবণতা বেড়েছিল। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে সেই গতির লাগাম টেনে ধরেছে ব্যাংক খাত। তথ্য বলছে, জানুয়ারিতে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ বেড়েছিল ৭ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, যা ফেব্রুয়ারিতে কমে ৩ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকায় নেমেছে। ফেব্রুয়ারি শেষে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, “নির্বাচনকালীন সাময়িক উদ্বেগের কারণে জানুয়ারিতে আমানত প্রবাহে কিছুটা চাপ ছিল। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে। সুদের হার বৃদ্ধি ও ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে।”

ফেব্রুয়ারির পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাধারণ সঞ্চয়ী বা চলতি আমানতের চেয়ে স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ বেড়েছে। গত এক বছরে স্থায়ী আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে ফেব্রুয়ারিতে আগের মাসের তুলনায় চাহিদা আমানতেও (২.২১ শতাংশ) উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে হলে সংস্কার কার্যক্রম ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখতে হবে। এতে করে গ্রাহকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

আরও দেখুন