1. bdsomachar24.news@gmail.com : Mohashin Hossain : Mohashin Hossain
  2. smtrs12@gmail.com : news :

নতুন বাংলাদেশে যুব কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে: জামায়াত আমির

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তরুণ প্রজন্ম রাষ্ট্র উন্নয়নের মূল শক্তি। নতুন বাংলাদেশের শাসন কাঠামোতে যুব কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। কর্মসংস্থানহীন তরুণ সমাজ একটি দেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে, আর দক্ষ ও কর্মক্ষম তরুণরাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর পলিসি সামিট–২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ৯টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে দেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিরা অংশ নেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশ্বাস করে যেখানে আধুনিক বাজার অর্থনীতি কার্যকর থাকবে, প্রশাসন হবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক এবং ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকবে না। তার মতে, ন্যায়, নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার ওপর দাঁড়ানো উন্নয়নই কেবল দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র—যেখানে রাজনীতির ভিত্তি হবে ঐক্য ও পারস্পরিক আস্থা, বিভাজন নয়। আশা ও নিরাময়ের রাজনীতির মধ্য দিয়েই দেশ এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, যারা সমান সুযোগ, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশ্বাস করেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে মতভেদ নয়, বরং অভিন্ন লক্ষ্যই হবে সহযোগিতার ভিত্তি।

অর্থনীতির বিষয়ে তিনি একটি আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করেন, যেখানে স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে উন্মুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি শিল্পায়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে অপব্যবহার না হয়—এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন থাকবে। তার ভাষায়, দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বজনপ্রীতি একটি রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়, আর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছতা ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে তিনি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার মতে, কৃষিকে অবহেলা করে কোনো দেশই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না।

সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এটি কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি পবিত্র ধর্মীয় কর্তব্য। তিনি জানান, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্য যুক্ত রয়েছেন, যারা দেশ গঠনে একসঙ্গে কাজ করছেন।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সামিটে অংশ নেওয়া বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এখন বিভাজনের সময় নয়—একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

আরও দেখুন