1. bdsomachar24.news@gmail.com : Mohashin Hossain : Mohashin Hossain
  2. smtrs12@gmail.com : news :

বাড়ছে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, করের বোঝা বাড়ার শঙ্কা

  • Update Time : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
একই সময়ে শুল্ক আদায় হয়েছে ৭৪ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৬ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা কম। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ০.৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে আয়কর আদায় হয়েছে ৮৬ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২৯ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা কম। আর প্রবৃদ্ধি ৫.৬৭ শতাংশ। এনবিআর সূত্র বলছে, কেবল মার্চে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ঘাটতি ৭ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। লক্ষ্যের তুলনায় ঘাটতি থাকলেও এ সময় রাজস্ব আহরণে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধি ৯.৬৪ শতাংশ। এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, রোজার ঈদের ছুটিতে একটা বড় সময় চলে গেছে। তখন রাজস্ব আদায় বন্ধ ছিল। এছাড়া বিপিসির দেওয়া ৫ হাজার কোটি টাকাও মার্চের হিসাবে আসেনি। কারখানা স্থানান্তর জটিলতার কারণে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো থেকেও দেড় হাজার কোটি টাকা কম আয় হয়েছে। আশা করছি এপ্রিলে রাজস্ব আদায় বাড়বে। চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। তবে অর্থবছরের মাঝপথে এসে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি করা হয়।

আসন্ন বাজেটেও সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। কারণ চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে আয়কর এবং আমদানি-রফতানি শুল্ক থেকেও বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়নের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হয়, তার সবচেয়ে বড় অংশ বা প্রায় ৩৮ শতাংশ আসে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এনবিআরকে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য দেয়া হচ্ছে। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৩৮ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা বেশি।

আয়কর ও ভ্রমণ খাত থেকেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। নতুন অর্থবছরে এই খাত থেকে মোট রাজস্বের ৩৭ শতাংশ আদায় করতে চায় এনবিআর। এ খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা।
 
এদিকে আমদানি ও রফতানি খাত থেকে শুল্ক বাবদ এনবিআরকে ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় করতে হবে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ২৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
 
তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া শুধু রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, সরকার রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর জন্য বড় ধরনের উদ্যোগ বা পরিকল্পনা নিচ্ছে। তবে শুধু ‘বিগ পুশ’ দিয়ে রাতারাতি রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব নয়।
 
তিনি আরও বলেন, এজন্য ধীরে ধীরে কাজ করতে হবে এবং করের আওতা বাড়াতে হবে। কিন্তু করের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে নিয়মিত করদাতারা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন। বাংলাদেশে যারা কর দেন তারা প্রতি বছরই কর দিচ্ছেন, আর যারা কর দেন না তারা এখনও করের বাইরে রয়েছেন। তাই রাজস্ব বাড়াতে হলে ভ্যাট ফাঁকিদাতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
 
২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে মোট ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেয়া হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

আরও দেখুন