প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার বেড়ে ৫০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
এক বছর আগে দেশের অর্থনীতির আকার ছিল ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অর্থনীতির পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেশি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে থাকার পূর্বাভাস দিলেও প্রাথমিক হিসাবে সেই সীমা অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কৃষি ও সেবা খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ, আর সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
তবে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা শ্লথগতি দেখা গেছে। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, যা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।