1. bdsomachar24.news@gmail.com : Mohashin Hossain : Mohashin Hossain
  2. smtrs12@gmail.com : news :

ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন : গভর্নর

  • Update Time : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু টুলস আছে, যা আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রয়োগ করব। আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না, তারা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের জন্য ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি সাপোর্ট (জরুরি তারল্য সহায়তা), যা দেওয়ার প্রয়োজন, তা আমরা দেব।’

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকিং খাত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, ‘ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। যেহেতু একটি সিস্টেমিক ব্যাংকে ন্যূনতম পাঁচজন সদস্য ছাড়া বোর্ড চলে না, তাই আমাদের তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে নিয়োগ দিতে হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকে অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে আমরা এসে একটি বোর্ড পাই, যা অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত। পাঁচজনের এই বোর্ডের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় তাকে ১৬ মার্চ পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে আমাদের কোনো কার্যক্রম ছিল না। আমরা কোনো বোনাস, বদলি বা পদোন্নতির জন্য কোনো হস্তক্ষেপ করিনি।

ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই ২০২৪-এ ইসলামী ব্যাংকের এডিআর (ঋণ-আমানত অনুপাত) ছিল ৯৩, যা বর্তমানে ৯৭-৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের নির্ধারিত সীমা হলো ৯২। আমরা ম্যানেজমেন্টকে এটি কমাতে বলেছি।’

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘আমি এমন অবস্থায় গভর্নর হিসেবে কাজ শুরু করেছি, যখন দেখতে পাই ব্যাংকিং সেক্টরে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে। ৩৫ শতাংশ থেকে ৩৬ শতাংশ এনপিএল (খেলাপি ঋণ) নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়।

শুরু থেকে আমাদের চেষ্টা ছিল সেক্টরটাকে প্রথমে স্থিতিশীল করা এবং তারপর ক্যাপিটালাইজ করা।’তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। এইরকম একটি ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’

গভর্নর বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছিল, এই সরকার আসার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখলাম সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন এবং মনোনীত এমডি দায়িত্ব নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। নতুন এমডি নিয়োগের জন্য ২৫ মার্চ পর্যন্ত আবেদনের সময় দিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।’

তিনি যোগ করেন, ‘বিভিন্ন সংস্থা থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ এবং ৬ ও ১০ মে ইন্টারভিউ নেওয়ার পর ১২ বা ১৩ মে এমডি নির্বাচন করা হয়। মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করে মে মাসের শেষে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।’

তিনি জানান, বর্তমানে বোর্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং গত মঙ্গলবার বা বুধবার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রথম সভা করেছেন।

বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সিবিএস (কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার) সমন্বয়ের অভাবের কথা, যা নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

এনবিএফআই নিয়ে সুখবর দিয়ে গভর্নর বলেন, ‘আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে কয়েকটি এনবিএফআই (আর্থিক প্রতিষ্ঠান) নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে, তার সমাধান প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ১২ বছর ধরে যেসব আমানতকারী টাকা পাচ্ছিলেন না, আমাদের কার্যক্রমের ফলে তারা তাদের টাকা ফেরত পাবেন।’

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

আরও দেখুন