1. bdsomachar24.news@gmail.com : Mohashin Hossain : Mohashin Hossain
  2. smtrs12@gmail.com : news :

পুঁজিবাজারে রোডশো’র কোনো প্রয়োজন নেই : বিএসইসি চেয়ারম্যান

  • Update Time : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

পুঁজিবাজার চাঙ্গার নামে রোডশো’র কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেছেন, ভালো ভালো কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে মার্কেটকে আকর্ষণীয় করতে পারলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পাবে। রোডশো’র নামে অর্থ অপচয় কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণেই পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু সংস্কারমূলক কার্যক্রম চলছে। হাউজগুলো ঘন ঘন অডিটের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এতে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা আসবে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করার যে অঙ্গীকার করেছিলো তা বাস্তবায়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে তাদের বক্তব্যে বিএসইসি’কে স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। বর্তমান কমিশনও কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে শেয়ারবাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। খ্যাতনামা বহুজাতিক কোম্পানি ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে আনতে ডাইরেক্ট লিস্টিং করা হবে। এতে কালক্ষেপণ হবে না। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হবে। বিগত সরকারের আমলে একীভূত হওয়া ৫টি ব্যাংক ও বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদের চেয়ে দেনা বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘ দুই দশকে কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। দীর্ঘদিনের কারসাজি, আস্থাহীনতা ও সুশাসনের ঘাটতিসহ নানা সংকট মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে পুঁজিবাজার। বিগত শাসনামলে গ্যাম্বলারদের কারসাজিতে পরিণত হয়েছিল দেশের পুঁজিবাজার। এবারই প্রথমবারের মতো কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করতে ভূমিকা রাখবে। পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা বর্তমান কমিশনের একটি সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের রক্তক্ষরণ বন্ধ করে চাঙ্গা করতে কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়াও রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। আওয়ামী শাসনের ১৫ বছরে জাল-জালিয়াতি, কারসাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১ লাখ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সে সময় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়ে কমপক্ষে ১৫ জন বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা কিংবা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। ক্রমাগত লোকসানের কারণে গত এক দশকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পুঁজিবাজার ছেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী। যার সংখ্যা ১৪-১৫ লাখ। এসব বিনিয়োগকারীদের বেশিরভাগই ঋণগ্রস্ত হয়ে দায় দেনার ভয়ে এখনো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

ছায়া সংসদে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে প্রাইম ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক ফারুক মেহেদী, সাংবাদিক ইকবাল আহসান ও সাংবাদিক হোসাইন শাহাদাত। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

আরও দেখুন